https://www.purusattom.com/

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বর্ণিত অনুশ্রুতি' গ্রন্থের প্রথম খন্ডের বাণী "বিবাহ"

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বর্ণিত অনুশ্রুতি' গ্রন্থের প্রথম খন্ডের বাণী "বিবাহ"


আজকের অংশবিশেষ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বর্ণিত 'অনুশ্রুতি' গ্রন্থের প্রথম খন্ড থেকে নেওয়া।


        বিষয় : *বিবাহ* 



ইষ্ট-স্বার্থপ্রতিষ্ঠা যা'র

     পরিণয়ের মূলে,

তা'রই বিয়ে সার্থক হয়

     বংশ ওঠে দুলে'।১।



বিয়ে-ব্যাপারে সবার আগে

     বর্ণের হিসেব করিস,

তা'র সাথেতেই বংশটিকে

      বেশ খতিয়ে দেখিস;

বংশ দেখে শ্রদ্ধা হ'লেই

        স্বাস্থ্য দেখিস কেমন তা'র,

তা'র সাথে তুই বাজিয়ে নিবি

      স্বভাব-অভ্যাস-ব্যবহার;

এ-সবগুলির সুসঙ্গতি

       মিলেই যদি যায়,

বিদ্যা দেখিস নজর ক'রে

        কর্ম্মের ওজন তা'য়;

পারম্পৰ্য্যে এইগুলি সব

       মিলিয়ে দিলে বিয়ে,

প্রায়ই দেখিস ঠকবি না তুই

        মরবি না বিষিয়ে।২।

সবাইকে জয়গুরু।


যে-পুরুষে করলে বিয়ে

       শ্রেষ্ঠ পানে ধাও,

হৃদয় খুলে যা'র কাছেতে

       দীপন পুষ্টি পাও,

বংশে শ্রেষ্ঠ পিতৃতুল্য

        কিংবা শ্রেষ্ঠতর,

সেই পুরুষে করলে বরণ

        হবে না ইতর।৩।



ইষ্টানুগ নতি তুমি

      যেথায় দেখতে পাবে,

কর্ম্মকুশল দক্ষ-নিপুণ

       শ্রদ্ধা-ভক্তি ভাবে,

শ্রেষ্ঠ বংশ-সমুৎপন্ন

       নাই ঠুনকো মান,

স্তুতিতে ভ'রে উঠবে বুক

       করলে আত্মদান।৪।



সৎস্বভাবে পরাণ-পাগল

     সেই তো রে তোর বর,

সব দিকে তোর শ্রেষ্ঠ হ'লে

      তা'রেই বরণ কর।৫।


সৎপুরুষে করবে বরণ

জননক্ষম নারী যখন,

      তবেই জন্মে সেই ক্ষমতা

       এই তো শাস্ত্র-নীতির কথা।৬।



রজস্বলা হ'লেই নারী

      বর-বরণে অধিকারী।৭।


উচ্চবর্ণে দিলে মেয়ে

    তাঁ'দের নিয়ম-নীতির ধাঁজে,

চলাই শ্রেয় কড়া নিয়মে

    আচার-বিচার কথায়-কাজে।৮।



উচ্চ বংশে মেয়ের নতি

     তুখোড় ঝাঁঝাঁল হয় সন্ততি।৯।



মাতৃবর্ণে যা'রই যে-থাক

     সে থাক সহ নিম্নপানে,

করলে বিয়ে পুরুষজাতি

     প্রাজ্ঞ শ্রেয় পায় সন্তানে।১০।


পিতৃবর্ণে যা'রই যে-থাক 

     সে-থাক হ'তে উচ্চপানে,

মেয়ের বিয়ে হ'লেই জানিস

      বাড়বে শিশু বীর্য্যজ্ঞানে।১১।


কেহ তোরে আবেগভরে

     ব'য়েই সুখী হয়,

বওয়া-সওয়ার কষ্ট যত

      সুখের ক'রেই লয়,

শ্রদ্ধা-ভক্তি আনতিতে

       ন্যস্ত ক'রে মন,

আত্মদানে করতে চাইলে

       তোরে রে বরণ,

সে যদি তোর ইষ্ট কাজে

       বাধা না ঘটায়,

নিস তা'রে তুই বুঝেসুঝে

       ফিরাস নাকো তা'য়।১২।



পূর্ব্বপুরুষ-সংস্কার যা'

         স্বল্প বিস্তরে,

অনুক্রমে আসছে নেমে

          বিয়ে-সূত্র ধরে;

ঐগুলি সব ব'য়ে সুখী

          এমন মেয়ে নিয়ে,

তা'তেই তুমি পুষ্টি পাবে

        সেই তো যোগ্য বিয়ে।১৩।



বড় কিংবা ছোট নিয়েই

       বিয়ের নীতি সিদ্ধ নয়,

যৌন-জনন সার্থক যা'তে

        সেই বিয়েই শ্রেষ্ঠ হয়।১৪।



গৌরব জয় উপঢৌকনে

      ইষ্টস্বার্থে পুরুষ ধায়,

ধারণ, রক্ষণ, প্রেরণা, সেবায়

       নারী যবে তা'র পিছনে যায়,

মুর্ত্তিমতী লক্ষ্মী সেখানে--

       নারীজীবন বৃদ্ধি গায়।১৫।


গৌরব-মুখর পূরণ-গড়ন

      আহরণেচ্ছু যতেক নরে,

বরণ-অর্ঘ্য বৃদ্ধি সমীক্ষে

        চলে নারী দিতে পালন বরে।১৬।



এককে নিয়েই ডুবে থাকা

     এই তো নারীর ধাঁচ,

বহুস্ত্রীতে সম মমতা

     মুখ্য পুরুষ ছাঁচ।১৭।



অটুট কঠোর আদর্শে যে

বহুবিবাহে সমর্থ সে,

     পুরুষে যখন না দেখবি তা'--

      একটিরও নাই উপযোগিতা।১৮।




















জয়গুরু।

বন্দে পুরুষোত্তমম্।।



শ্রীশ্রীঠাকুর বর্ণিত 'অনুশ্রুতি' (প্রথম খন্ড) থেকে সংকলন করলাম।


বিনয়াবনত :

Purusottam.com

Comments